জীবিকা

বৈদিক যুগের আর্যগণের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন ছিলো গো-পালন এবং ‍কৃষি কাজ। বেদের বিখ্যাত ‘অক্ষ’ সূক্তে দ্যুত ক্রীড়ার নিন্দা এবং কৃষি কাজের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘পাশা খেলো না, কৃষিকাজ করো। কৃষি কাজে বহু সম্মান ও বিত্তলাভ করবে।’ আবার, চারণ ভূমিতে বাঘের খুব উৎপাত হতো। সুতরাং দেবতার কাছে ঋষির প্রার্থনা দেখা যায়, গোধন যেন বাঘের দ্বারা নিহত না হয়। কুপপ্রপাত দ্বারা যেন বিনষ্ট না হয়।

বৈদিক যুগে ছিল প্রচুর বনাঞ্চল। বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র জীবজন্তুর মাধ্যমে আক্রমণ তাই নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। গাভী বা বাছুরের গভীর জঙ্গলে হারিয়ে যাবার সমস্যা তো আছেই। ঋষিরা তাই প্রার্থনা করতেন, দুগ্ধবতী গাভীসমূহ যেন বৎস থেকে পৃথক হয়ে অগম্য স্থানে চলে না যায়। আর্যরা শষ্য উৎপদনের প্রণালিও শিখে ফেলেছিল। ব্যবস্থা ছিলো কৃত্রিম জলসেচের। বেদে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম- উভয় প্রকার জলসেচের কথা আছে। যেমন,

‘যা আপো দিব্য উতবাস্রবন্তি
খানিত্রিমা উতবা যাঃ স্বয়ংজাঃ।
সমুদ্রার্থা যাঃ শুচয়ঃ পাবপস্তা
আপো দেবীরিহ সামবস্তু।।

উপর্যুক্ত মন্ত্রে খনিত্রিমা বলতে কৃত্রিম জলসেচ এবং স্বয়ংজা শব্দে প্রাকৃতিক জলসেচকে বোঝানো হয়েছে।  

শিল্প

বৈদিক যুগে স্বর্ণের প্রচুর চাহিদা ও সরবরাহ ছিল। সাধারণ মানুষও স্বর্ণের অলঙ্কার পড়তো। রাজা মাহরাজাগণ নিজের সিংহাসন থেকে রথ অব্দি সোনা দিয়ে তৈরি করতেন। সোনা দিয়ে সজ্জিত হতো দেবতাদের মন্দির। যেহেতু মানুষের অন্যতম পেশা হিসাবে পশুপালন প্রতিষ্ঠিত; পশুর চামড়াও ব্যবহৃত হয়েছে নানা কাজে। চর্মশিল্প ছিলো অনেকেরেই জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। ছিল দড়ি আর সুতার ব্যবহার। অন্যদিকে বৈদিক যুগের শুরুই ছিলো নৃতাত্ত্বিক যুগবিভাগের লৌহযুগের সূচনা। সেখান থেকেই মানুষ শিখেছে লোহার ব্যবহার। নানা রকম যুদ্ধাস্ত্র কিংবা আসবাব নির্মাণে লোহার ভূমিকা ছিল ব্যাপক।   

আর্যরা উন্নতমানের জলযান, বিশেষ করে সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়। তার প্রমাণ পাওয়া যায় অনেক মন্ত্রে। ১০/১৪৩/৪৫ মন্ত্রে সামগ্রিকভাবে জাহাজের কথা আছে। বড় আকারের সামুদ্রিক নৌকাকে বলা হতো সৈরাবতী নৌ। যুদ্ধমুখী জাতি হিসাবে প্রায়শ তাদের লিপ্ত হতে হতো যুদ্ধে। ফলে লোহা, স্বর্ণ ও পাথরের বহু অস্রের নজির মেলে। ইন্দ্রের এক হাজার ক্ষুরযুক্ত বজ্রের বর্ণনা আছে। আছে কুঠার ও ধনুক তৈরির আলোচনা।